প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৮, ২০২৬, ৪:৪৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০২৫, ৫:৩৬ পি.এম
নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি,আটক-৩

রাজধানীর বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সোয়েব রহমান জিশানসহ (২৫) ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার ফুলহাতা গ্রামের মো. মিজানুর রহমান খানের ছেলে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার চহটা গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও একই উপজেলার রাজ্জাকপুর গ্রামের মো. নুরুল আমিনের ছেলে মো. কাউসার হোসেন।
এর আগে বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সোয়েব রহমান জিশানসহ অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী ই-ব্লক ৩নং রোডের শেষ মাথার জুস দোকানের ভেতরে ছিলাম। সে সময় অজ্ঞাতনামা এক লোক বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল দেখে আমি তার কাছে জানতে চাই, আমাকে চেনেন কিনা? কেন তাকাচ্ছেন বারবার? এ কথা শুনে উনি উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এ কারণে আমি দোকান থেকে বের হয়ে আসি। আমি ও আমার ছোট ভাই ও বন্ধু দোকান থেকে বের হই। বের হওয়ার পর ওই দোকানে অজ্ঞাত দুজন ঢোকেন। খুব সম্ভবত ওই লোকের কাছ থেকেই তাকানোর বিষয়টি শুনে তারা আমার দিকে তাকালে কী হবে বলে টিজ করতে করতে দোকান থেকে বের হয়ে বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাতনামা দুজন আমার পথরোধ করেন।’
‘এটা দেখে আমার ছোটভাই তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন তারা আমার ভাইকে থ্রেট দেওয়া শুরু করে এবং বলে যে, ‘বাসা কই, চলো বাসায় যাই’। আমি তখন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বলতে থাকি, আমাকে টিজ করায় আমার ছোট ভাই সামনে আসছে, আপনারা সরেন। ওরা আরও উত্তেজিত হতে থাকে এবং আমার ভাইকে দুজনে মারতে শুরু করে। তখন আমি আমার ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে পেছন থেকে বিবাদী জিশান ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এসে আমাকে চুল ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে ও আমার শরীরে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি দেয়।’‘অন্যদিকে আমার ভাইকে মারপিট করতে দেখে আমার বন্ধু মাশফিক ভিডিও করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এরপর বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাত দুজন ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া শুরু করে এবং আরও বলতে থাকে, ‘রেপ করসি?’, ‘হ দেখ রেপ করসি’। ওই সময় বিবাদী জিশান মোবাইল ফোনে ফোন করে আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জন লোক নিয়ে আসে। সবাইকে শনাক্তও করা যায়নি, বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাত দুজন ব্যক্তি আমাদের ফোন ফেলে দিচ্ছিল বারবার লাথি দিয়ে। বলছিল কার কাছে যাবি যা? একজন বলল, ‘আমি আনন্দ টিভির সাংবাদিক, যা কার কাছে বিচার চাওয়ার চেয়ে নে’।
তখন এক বয়স্ক লোক এসে ওদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করে বলতে থাকে, ‘আমি সমিতির নেতা, সমাধান করে দেব।’ তখন আমি ও আমার ছোট ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে চলে যাই।
মামলার বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ প্রতিবেদককে বলেন, মামলায় সোয়েব রহমান জিশান নামে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
Copyright © 2026 Daily Infinity News. All rights reserved.