
কালিয়াকৈর প্রতিনিধি:শাকিল হোসেন
দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটিয়ে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উৎপাদনে গতি ফিরেছে। গত কয়েক দিন ধরে বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় কারখানাগুলোতে কাজের চাপ বেড়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর জমে থাকা অর্ডার শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলেও গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা এবং বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান তারা।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় বাণিজ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ইপিজেডসহ গাজীপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক ও কালিয়াকৈর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের। এখানে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাসের গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে এসব কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একটি কারখানায় যেখানে গড়ে ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক সময় মাত্র ১ থেকে দেড় পিএসআই পাওয়া গেছে। এতে বয়লার ও ডাইং ইউনিট চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় খরচও বেড়ে যায়।
এর মধ্যে গত দুই দিনে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ ২ দশমিক ৫০ পিএসআই থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৯ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে।
নুর গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় তাদের কারখানায় উৎপাদন কম ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। তাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই হলেও বর্তমানে ৬ দশমিক ৫৯ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কাজের উৎসাহ বেড়েছে এবং কারখানায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের এ পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সহায়তা এবং বকেয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে গত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
নায়াগ্রা টেক্সটাইলের এজিএম (অ্যাডমিন) তালুকদার বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কারখানায় এখনও গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আশা করছি, ধীরে ধীরে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস সময় কাটানোর পরিস্থিতিও কমেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জমে থাকা অর্ডারের কাজ শেষ করতে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের এই উন্নতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দরকার।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির গাজীপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত বলেন, সিস্টেমে গ্যাসের চাপ বাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। তবে সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের চাপ বাড়ে না; অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় ভালো। সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।