
মো. রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র আওতাধীন নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ, নৌ-শ্রমিক হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক ও নৌ-শ্রমিকরা।
রোববার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জের সাচনাবাজার থেকে লালপুর-গজারিয়া নদীপথে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ২৫ পয়সার পরিবর্তে অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় এলসি ও বার্ডিং চার্জ আদায় কেন্দ্রের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট লোকজন নদীপথে চলাচলকারী বালু-পাথরবাহী নৌযান থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। বিভিন্ন স্থানে চলন্ত নৌযান থামিয়ে টোল আদায় এবং অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের হয়রানি ও মারধরের অভিযোগও করেন তারা। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে রশিদ না দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও ওঠে।
নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, নির্ধারিত টোল আদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও নদীপথের বিভিন্ন স্থানে নৌযান থামিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অবিলম্বে নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়, শ্রমিক হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের সমাবেশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লোকমান হোসেন, রহমগীর, মিল ব্যবসায়ী নবী নুর, নৌ-শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, করিম হোসেন কবীর, ওমর ফারুক, জুয়েল, শাহজালাল, আল আমিন, আউশাল আজমসহ অনেকে।
এ বিষয়ে ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি বলেন, “সরকার আমাদের যে রেট দিয়েছে, আমরা সেভাবেই আদায় করছি।” প্রতি ঘনফুট পাথর ও বালুর টোলের বিষয়ে তিনি বলেন, পাথরের জন্য ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুর জন্য ৩০ পয়সা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। তার দাবি, তাদের ঘাটে অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করা হয় না।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সাচনা থেকে লালপুর-গজারিয়া নদীপথে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে কেউ অতিরিক্ত টোল আদায় করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।