
মোঃ আশিকুর রহমান
(গাজীপুর প্রতিনিধি)
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের কারাগারে কমবেশি সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরব সরকারের কাছে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে মরদেহবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। এই বন্দিদের তালিকা সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে পাঠায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব সরকারের কাছে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এ ধরনের দণ্ডে দণ্ডিত হলে সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের শাস্তি মওকুফের জন্য সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অন্য নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবারের কাছে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে।
সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।