
মোঃ রিয়াজ রহমান
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মাদারীপুরের শিবচরে। উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রং ও তুলির শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে অলংকরণ ও সাজসজ্জার কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করতে ব্যস্ত আয়োজকেরাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। মাটির কাজ শেষে প্রতিমার মুখমণ্ডল, চোখ, পোশাক ও অলংকারে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নিখুঁত কারুকাজ। প্রতিটি প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে শিল্পীদের চলছে নিরলস পরিশ্রম। অন্যদিকে পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।
প্রতিমাশিল্পী নিমাই পাল বলেন, ‘দুর্গাপূজার আগে আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। প্রতিটি প্রতিমা যত্ন নিয়ে তৈরি করতে হয়। মাটির কাজ শেষ করে এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ করছি। সময়মতো কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে প্রতিমা যখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়।’
শিবচর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘এ বছর শিবচরে ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। আমরা চাই, সবাই যেন আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনই আমাদের প্রত্যাশা।’
এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক থাকবে।’
আয়োজকেরা আশা করছেন, যথাসময়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।