
গাজীপুরে সাংবাদিককে রামদার কোপ, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে হামিদ মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেটসংলগ্ন একটি পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিককে সহকর্মীরা উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কারখানাটির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারখানার আশপাশে অবস্থান ও মহড়া দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। একপর্যায়ে সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ।
আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল বলেন, “আমি পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় সেলিমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে আমার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কালাম দাবি করেন, সেখানে কোনো পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সশস্ত্র অবস্থানের খবর পেয়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। এরপরই সাংবাদিক টুটুলকে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দূর্জয় জানান, রামদার আঘাতে সাংবাদিক টুটুলের মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মস্তিষ্কের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আহত সাংবাদিককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানি জানান, পুলিশ বিষয়টি অবগত রয়েছে। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই নজরুল ইসলামকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ, ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার বলেন, সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের মারাত্মক হামলার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডল ও তাঁর ছেলে সোহেলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।